জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের আলীপুর,খানপুর গ্রামের সংখ্যালুগো সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত প্রাচীন শ্মশানঘাট সহ এলাকাবাসীর খেলারমাট ও গোচারণ পতিত জমি জবর দখল করে মসজিদ, মাদ্রাসা ও পুকুর খনন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাল জালিয়াতির মাধ্যমে এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী ভুমিখেকু চক্র হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশানঘাট সহ আলীপুর, খানপুর ও গোতগাঁও গ্রামবাসীর খেলারমাট ও গোচারণ ভুমি দখল করেছে। ব্রিটিশ শাসনামল থেকে ব্যবহৃত এলাকার হিন্দু সম্প্রদায় তাদের শ্মশানঘাট দখল মুক্ত করতে আইনি সহায়তা চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার ১৩ মার্চ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর গণস্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ দাখিল করেন। হিন্দু সম্প্রদায় অভিযোগে উল্লেখ করেন যে, আলীপুর, খানপুর ও গোতগাঁও গ্রামবাসীর ব্রিটিশ শাসনামল থেকে কবরস্থান, শ্মশানঘাট, গোচারণ পতিত রকম ৪২.২০ একর ভুমি ব্যবহার করে আসছেন। উক্ত ভুমি ১৯৫৯ ইংরেজী সনে এলাকার কিছু মানুষ একসনা বন্দবস্তের নামে জবর দখলের পায়তারা করলে,তৎকালিন সময়ে উক্ত গ্রামবাসীর পক্ষে এলাকার সচেতন জনসাধারণ স্থায়ী নিষেজ্ঞা চেয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে ১৯৬২ ইংরেজী সনে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত সাক্ষ্য প্রমাণের বিত্তিতে কবরস্থান, শ্মশানঘাট, গোচারণ পতিত জমি হিসেবে ব্যবহারের জন্য উল্লেখিত গ্রামবাসীর পক্ষে দখলদারদের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেজ্ঞা আরোপ করে ১৯৬৬ ইংরেজী সনে রায় প্রদান করেন। আদালতে এ রায় উপেক্ষা করে আবারও ১২ খলের উৎসবে মেতে উঠে এলাকার প্রভাবশালী একটি ভুমিখেকু চক্র। উক্ত চক্রের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর পক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা সহকারী জজ আদালতে ২০০৪ ইংরেজী সনে মামালা দায়ের করা হয়। দায়েরকৃত মামলাটি আদালত ২০০৭ ইংরেজী সনে কবরস্থান, শ্মশানঘাট, খেলারমাট ও গোচারণ পতিত জমি হিসেবে ব্যবহারের জন্য গ্রামবাসীর পক্ষে রায় প্রদান করেন। আদালতের স্থায়ী রায় বহাল থাকার পরও ইউনিয়নের গোতগাঁও গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রভাবশালী শাহিন আহমদ গংরা সংখ্যালুগো সম্প্রদায়ের শ্মশানঘাট সহ খেলার মাট ও গোচারণ ভুমি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে জবর দখল করে রেখেছে। আদালতের রায় অনুযায়ী সরকারি ৪২.২০ একর ভুমি ক্রয়বিক্রয়, চাষাবাদ, বসতি স্থাপন করা নিষেধ থাকলে ও দখলদার শাহীন আহমদ গংরা শ্মশানঘাট দখল করে মা ফাতেমা রাঃ দাখিল মাদরাসা, মসজিদ নির্মাণ, পুকুর খনন সহ বসতি স্থাপন করে আসছেন। শ্মশান ঘাটের ৬০ শতক ভুমি নামিও থাকলেও নিরীহ হিন্দু সম্প্রদায়কে ব্যবহারের জন্য দেয়া হচ্ছেনা বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। আলীপুর গ্রামের একাদিক নিরীহ হিন্দু সম্প্রদায় ক্ষোভের সাথে এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমরা পূর্বপুরুষ থেকে শতশত বছর ধরে উক্ত শ্মশানঘাটে শেষ কৃত্য করে আসছি,কিন্তু শ্মশানঘাট দখল করায় শবদাহ করতে পারিনা। সংখ্যালুগো সম্প্রদায় তাদের পূর্বপুরুষের শ্মশানঘাট দখল মুক্ত করতে এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/১৩মার্চ২০১৮/ইকবাল